দর্শনের মস্ত এবং চরম দুঃসাধ্য এক সমস্যা হলো আদিপাপ।
নোবেল বিজেতা পোলিশ কবি চেসোয়াভ মিউশ, তাঁর কবিতা ও সাক্ষাৎকার
শংকর ব্রহ্ম
সপ্তম পর্ব
প্রশ্ন : আপনি আপনার কবিতা ‘কাব্যতত্ত্বে’ বলেছেন, কবিতার উদ্দেশ্যই হলো আমাদের মনে করিয়ে দেওয়া যে, শুধু একজন অখন্ড মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকা কী যে কঠিন।
মিউশ : আমার কবিতাকে বলা হয় বহু-স্বরিক। তার মানে হলো কথনস্বরে আমি পরিপূর্ণ থাকি; একভাবে আমি নিজেকে মাধ্যম বা সরঞ্জাম ভাবি। আমার বন্ধু জীন হার্শ, যে আমাকে কার্ল ইয়াসপার্সের অস্তিত্ববাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল, বলে যে, ‘এমন ইনস্ট্রুমেন্টাল ব্যক্তি আমি আর দেখিনি,’ তার মানে হলো, স্বর আমার মধ্যে যাওয়া-আসা করে। এখানে পার্থিব-বহির্ভূত কোনোকিছু নেই, বরং আমার নিজের সাথে কিছু-একটা রয়েছে। এখানে কি আমি একা? আমি তা ভাবি না। নীটশে ও দস্তয়েভস্কিই প্রথম লেখক যাঁরা আধুনিক সভ্যতার সংকটকে চিহ্নিত করেছিলেন এই বলে যে, আমরা প্রত্যেকেই পরস্পরবিরোধী স্বর এবং জড়-তাড়না দ্বারা তাড়িত হই। যখন এসব অতিথি যাওয়া-আসা করে আর তাদের যন্ত্র হিসেবে আমাদের নেয়, তখন একই ব্যক্তি হিসেবে যথাযথ থাকার সমস্যা নিয়ে আমি লিখেছি। কিন্তু খারাপ সত্তা নয়, ভালো সত্তা দ্বারা অনুপ্রাণিত হওয়ার আশা আমাদের থাকতে হবে।
প্রশ্ন : আপনি নিজেকে বলেছেন এক মাধ্যম, কিন্তু সন্দেহপ্রবণ একজন। এর দ্বারা আপনি কী বুঝিয়েছেন? কী অর্থে আপনি এক মাধ্যম?
মিউশ : পেছনে ফিরে তাকালে আমার মনে হয়, সবকিছুই যেন আমাকে লিখতে হুকুম করছিল, আর আমি যেন ছিলাম এক সরঞ্জাম। কিসের সরঞ্জাম আমি জানি না। আমি বিশ্বাস করি, আমি ঈশ্বরের এক যন্ত্র, কিন্তু এটা দুঃসাহসিক একটা ব্যাপার। আর আমি যা-ই হোক না কেন একেই বলতে চাই আমার daimonion। আমি একটি নতুন কবিতা লিখেছি যেখানে আমার এই সম্পর্কটিকে বর্ণনা করা হয়েছে।
প্রশ্ন : আমরা আবার ফিরে যাই আপনার আগের বছরগুলোর কাছে। ওয়ারশ অভ্যুত্থান এবং নিধনযজ্ঞের আপনি ছিলেন একজন চাক্ষুষ সাক্ষী, কিন্তু এ নিয়ে আপনার লেখা অপেক্ষাকৃত কম।
মিউশ : বিভিন্ন সময়ে আমাকে অনুরোধ জানানো হয় ‘campo dei Fiofi’ কবিতাটি পাঠ করতে, যা লেখা হয়েছিল ওই সময়ের ভোগান্তি নিয়ে। সম্প্রতি ওই সময়ের ঘটনাকে নিয়ে লেখা আমার কবিতাগুলোর পুনর্মুদ্রণের এক অনুরোধ আমি নাকচ করে দিই। আমি চাই না, নিজেকে একজন পেশাগত শোককারী হিসেবে পরিচিত করতে।
প্রশ্ন : আপনি একজন অভিবাসী হিসেবে পারিতে থেকেছেন। ‘Bypassing Rue Descartes’ নামীয় কবিতায় আপনি পারিকে এমন শহর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যেখানে দেখা মেলে অনেক নীতি, যাকে আপনি বলেছেন ‘সুন্দর চিন্তা’, যা একাধারে সরল ও নিষ্ঠুর।
মিউশ : পূর্ব ইউরোপ থেকে আসা মানুষের জন্য পারি কোনো নিশ্চিত জায়গা ছিল না। দুই পর্যায়ে আমি পারিতে ছিলাম। ১৯৫০ সালে আমি পোলিশ দূতাবাসের একজন অ্যাটাশে ছিলাম আর সে-সময়ে পাবলো নেরুদা এবং পল এলুয়ারের সঙ্গে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছি। পরের বছর পোল্যান্ডে কমিউনিস্ট শাসনের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভেঙে গেলে আমি একজন রিফিউজি হিসেবে সেখানে আবার বাস করতে আসি। সে-সময়ে ফরাসি বুদ্ধিজীবীরা আবার সাম্যবাদ এবং স্টালিনের প্রেমে একবারে মশগুল থাকত। আমার মতো যে-কেউ অসন্তুষ্ট হয়ে পূর্ব ইউরোপ থেকে এখানে এলে তাকে ভাবা হতো পাগল বা আমেরিকার দালাল। ফরাসিরা ভাবত, তাদের তথাকথিত Idées générales সমগ্র বিশ্বের জন্যই বোধহয় প্রযোজ্য। এগুলো ছিল সুন্দর ধ্যানধারণা; কিন্তু একেবারেই অবাস্তব। একই সময়ে ইউরোপের রাজনৈতিক অবস্থা ছিল হতাশাজনক এবং অস্বস্তিকর; লাখ লাখ মানুষ তখন গুলোকে; তাদের কষ্ট ইউরোপের বাতাস এবং বাতাবরণকে দূষিত করে ফেলেছিল। আমি জানতাম কী ঘটতে যাচ্ছিল। পশ্চিমকে তখনো সলজেনেৎসিনের লেখা গুলাক দ্বীপমালা থেকে শিক্ষা নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছিল।
প্রশ্ন : আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কি আপনাকে সমস্যায় ফেলেছিল?
মিউশ : এটা কোনো গোপন কিছু নয়। যখন আমি ওয়ারশতে ফিরলাম, সরকার তখন আমার পাসপোর্ট কেড়ে নিল। কূটনৈতিক চাকরি নিয়ে পারিতে ফিরে যাওয়া তারা চাইল না। শেষ পর্যন্ত তা আমাকে পুরনো অবস্থায় নিয়ে এলো। কিন্তু তখনই আমি তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলাম এবং নির্বাসনে চলে এলাম। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজনের অতি আগ্রহী সাম্যবাদী রুশ পত্নী আমাকে বলল, আমার মতে, একজন লেখকের দেশত্যাগ করা উচিত নয়, কিন্তু যেহেতু আপনি অন্যরকম সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছেন তখন মনে রাখবেন যে, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া আপনার দায়িত্ব রয়েছে। কার বিরুদ্ধে? স্টালিন, তিনি বললেন; রাশিয়ার জল্লাদ। এরকম বলা তখন ছিল এক বিপজ্জনক ব্যাপার। কিন্তু আমিও বলার এক বাধকতাকে অনুভব করলাম। আলব্যের কাম্যুর সঙ্গে তখন আমার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল, সে-সময় জাঁ পল সার্ত্র ও তাঁর লোকজন তাঁকে তাড়াচ্ছিল, তাঁকে ধ্বংস করতে চাইছিল কারণ তিনি তাঁর রেবেল গ্রন্থে, অন্য অনেককিছুর সঙ্গে সোভিয়েত ইউনিয়নে কনসেনট্রেশন ক্যাম্প ছিল বলে উল্লেখ করেছিলেন। কারণ আমার মতে, যারা আমাকে অনুবাদ করতে পারত তারা তা করতে অস্বীকার করল। তারা বলল যে, যদি তারা তা করত তবে তারা একঘরে হয়ে পড়বে। সুতরাং সে-সময় আমি খুব কঠিন অবস্থায় পড়ে গিয়েছিলাম।
প্রশ্ন : কবিতা কি দর্শনের জন্য যথাযথ ক্ষেত্র?
মিউশ : এটা নির্ভর করে কী ধরণের দর্শন তার ওপর।
প্রশ্ন : আপনার নিজের কবিতার জন্য আপনি কী ধরণের দর্শন পেয়েছেন?
মিউশ : আমার কবিতায় সে-ধরণের দর্শন রয়েছে যা আমাকে রাতে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় আলোতে খরগোশের লাফ দিয়ে পড়ার মতো একটি অবস্থা মনে করিয়ে দেয়। খরগোশ জানে না, কীভাবে আলোকরশ্মি থেকে বের হয়ে যেতে হয়। তাই সে সোজাসুজি সামনের দিকে দৌড়ায়। আমি সে-ধরণের দর্শনে আগ্রহী যা সে-অবস্থায় খরগোশের উপকারে আসবে।
প্রশ্ন : খরগোশের জন্য কোনো আশাই আর নেই। আপনি যখন ছাত্র ছিলেন, সবসময় আপনি আপনার ঝোলায় গির্জার ইতিহাস রেখে দিতেন, আর আপনি মানিকিইজমের মতো বিরুদ্ধ মতেও সুনির্দিষ্টভাবে আগ্রহী ছিলেন।
মিউশ : সাধু, কিন্তু বলা দরকার মানিকিইজম কোনো বিরুদ্ধ মত ছিল না, দীর্ঘকাল ধরে তা একটি প্রতিষ্ঠিত ধর্ম ছিল। মূলত তা অশুভের এক উল্লেখযোগ্য ক্ষমতাকে স্বীকার করে, আর অশুভ হলো শুভের অভাব – এই ধ্রুপদী ও ধর্মগত ব্যাখ্যাকে প্রতিরোধ করে। সে-সময়ে অশুভের ক্ষমতাকে মানবসমাজের যৌথ সৃষ্টি এবং মানবাত্মার স্বতন্ত্র উপাদান হিসেবে ব্যাপকভাবে স্বীকার করা হতো। সমসাময়িক নাস্তিকদের যে যুক্তি – যে এক কল্যাণময় ঈশ্বর এ জগৎ যেমনটি সেভাবে তা সৃষ্টি করতে পারেন না – তা প্রকৃতপক্ষে নব্য-মানিকীয়। যদিও তা একবারেই আমার মতো নয়, তবু আমি স্বীকার করি যে, এটি একটি জোরালো যুক্তি; আমার কবিতাতেও আমি অশুভের অস্তিত্বকে ভালোভাবে সম্পর্কায়িত করেছি। সাইমোন ওয়েল, যিনি একজন অতি পরিণামবাদী, তিনি অশুভের ক্ষমতাকেও স্বীকার করেছেন, যা তাঁর চিন্তার প্রতি আমার আকর্ষণের প্রধান কারণ ছিল। তিনি বলে বসতেন যে, মানুষের মধ্যে কেবল সরষের দানার পরিমাণ শোভনতা আছে।
প্রশ্ন : আপনার ‘গান’ কবিতায় নারীটি আকাঙ্ক্ষা করে ‘অক্ষত একটি বীজ’। আপনি এবং ওয়েল উভয়েই দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করছেন মার্কলিখিত সুসমাচারের সেই সরষের বীজকে।
মিউশ : হ্যাঁ, এই ছোট সরষের বীজ হলো ঈশ্বরের রাজ্য, শোভনতা আর শুভত্ব – পৃথিবীর অমঙ্গলের সাথে তুলনা করলে বলতেই হয় ছোট। এটাই ছিল সিমোন ওয়েলের বিশ্বাস। সে-সময়ে আরেকজন লেখক আমাকে আকর্ষণ করেছিলেন, তিনি হলেন লেফ শেস্তোফ, যিনি দেখেছিলেন যে, সমগ্র জগৎ বিশ্ববিধির দ্বারা পরিচালিত। তিনি স্টোয়িকবাদের বিরোধিতা করেন। একজন স্টোয়িক, তিনি প্রাচীন কিংবা আধুনিক যা-ই হোন না কেন, বলবেন হাসিমুখে দুঃখ সয়ে যাও। কিন্তু কেন আমরা তা সইব? শেস্তোভের তত্ত্ব ছিল, আমাদের দ্রোহ করা উচিত, আর্তনাদ নয়! তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ এথেন্স অ্যান্ড জেরুজালেমে গ্রিক স্টোয়িকবাদের বিপরীতে আর্তনাদরত যবকে তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন।
প্রশ্ন : আপনি কি মনে করেন ঘূর্ণিঝড় থেকে যবকে দেওয়া ঈশ্বরের উত্তর যথেষ্ট ছিল?
মিউশ : না, তা যথেষ্ট ছিল না, যথেষ্ট ছিল না।
প্রশ্ন : যবের ঈশ্বর আর ওল্ড টেস্টামেন্টের ঈশ্বরকে কি আপনি আলাদা ঈশ্বর বলে বিবেচনা করেন?
মিউশ : আমি জানি না। অনুমান করি, আমরা এমন এক রাজ্যে প্রবেশ করেছি যেখানে এসবের কোনো উত্তর নেই।
প্রশ্ন : আদি খ্রীষ্টানত্বের জটিলতা থেকে নস্টিকবাদের জন্ম হয়েছিল, যা বিশ্বাসকে বাদ দিয়ে জ্ঞানের মাধ্যমে পরিত্রাণ পাওয়ার ওপর জোর দিয়েছিল। নস্টিকবাদে আপনার আগ্রহ আপনার কবিতার সঙ্গে কতটুকু সম্পর্কিত?
মিউশ : খ্রীষ্টানত্বের প্রথম শতাব্দীতে নতুন ধর্ম নানাভাবেই শিক্ষিত মানুষের জন্য অসম্পূর্ণ মর্মে প্রতিভাত হচ্ছিল, আর এ-সুযোগেই নস্টিকবাদ ছড়িয়ে পড়েছিল। নস্টিকবাদ তখন তা-ই করেছিল এখন কবিতা শিক্ষিত লোকের জন্য যা করে। কিন্তু কবিতাকে শুধু নন্দনতত্ত্বে নামিয়ে আনলে হবে না। অনেক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেই কবিতা হলো নিখিলবিশ্বে মানুষের অবস্থানের অন্বেষণ। মানুষের স্বর্গ থেকে পতনের পর থেকেই মঙ্গল আর অমঙ্গল মানুষের মধ্যে আরোপিত। প্রধান প্রশ্ন হলো : এই মুহূর্তটির আগে আদম এবং ইভ কী অবস্থায় বেঁচে ছিল? দর্শনের মস্ত এবং চরম দুঃসাধ্য এক সমস্যা হলো আদিপাপ। লেভ শেস্তোভ বলেছেন, আর আমিও একমত যে, এটা উল্লেখযোগ্য বস্ত্ততঃ অনেকটাই অনুনমেয় যে, আদিম ধর্মযাজকেরা এমন এক রহস্যময় পুরাণে উপনীত হলো যে, যে-প্রজন্ম আজ পর্যন্ত এর জন্য মেহনত করেছে, তাদের কাছে বিষয়টা অবোধ্যই রয়ে গেল।
প্রশ্ন : কীভাবে এক মঙ্গলের ঈশ্বর পৃথিবীতে অমঙ্গল হতে দেন, এই প্রশ্নটা আপনার কবিতায় একবারেই জড়িয়ে আছে। আমরা কি ঈশ্বরকে যুক্তির ভেতর দিয়ে, কবিতার ভেতর দিয়ে সত্যি বলে প্রমাণ করতে পারি?
মিউশ : শেস্তোভ বলেছেন, পৃথিবীতে এমন প্রশ্ন আছে যেগুলো জিজ্ঞেস করা ঠিক না, কেননা এগুলোর কোনো উত্তর হয় না। সাইমোন ওয়েল এই অসংগতিকে সমর্থন করতে চেয়েছেন এই বলে যে, তা অনধিগম্যতার নৈতিক জোর। আমার সবকিছুই অসংগতিময়, আমি দ্বন্দ্বেই যেন গঠিত, আর এ-কারণেই দর্শন অপেক্ষা কবিতা আমার কাছে লেখালেখির জন্য উৎকৃষ্ট ফর্ম।
প্রশ্ন : ওয়েল ধর্মের এই সাবলীল স্বস্তির বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
মিউশ : তিনি ছিলেন মানবিক দুর্বলতায় সামান্য সহ্যশক্তিসম্পন্ন একজন আপসহীন ব্যক্তিত্ব, অন্ততঃ নিজের সঙ্গে। এক অর্থে তিনি ছিলেন একজন প্রকৃত তপস্বী। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, অন্তিম দশায় উপনীত রোগী, যে ভাবে যে, সে ভালো হয়ে যাচ্ছে, এইরূপ কাল্পনিক মতিভ্রমতার আসুরিক কাজকে তিনি বাতিল করে দেন। তবে আশ্চর্যজনকভাবে উপশম ঘটবে, এ-ধরণের আশা থাকা অত্যন্ত মানবিক এক ব্যাপার বলা যায়। কেন তাদের বাতিল করা? মানবিক সবকিছুতেই আমাদের এ-ধরণের স্বস্তিকে অনুমোদন করা উচিত।
প্রশ্ন : আপনার বন্ধু উইটোল্ড গোমব্রোভিচ একবার তাঁর ডায়েরিতে লিখেছেন, ‘মিউশ দ্বন্দ্ব, যন্ত্রণা, আর সংশয়কে অভিজ্ঞতায় এনেছেন যা আগের লেখকদের কাছে একেবারেই অজানা ছিল।’ আপনি কি এতে একমত?
মিউশ : হ্যাঁ, আমি একমত। তিনি বিশেষভাবে তা উল্লেখ করেছেন আমার দ্য ক্যাপটিভ মাইন্ড বইটি মনে রেখে, আর এ-শতাব্দীর শয়তানের সঙ্গে আমার সংগ্রামকে মনে রেখে – হেগেলীয় ঐতিহাসিক বিশ্ববিধিতে বিশ্বাস যে, ইতিহাস পূর্বনির্ধারিত রেখা ধরে এগিয়ে যায়। আমি দ্য ক্যাপটিভ মাইন্ড লিখেছিলাম নিজেকে মুক্ত করতে, এ-দর্শনের বিরুদ্ধে যুক্তি খুঁজে পেতে। এজন্যই সম্ভবত তিনি বলেছেন যে, আমার সংগ্রাম আগের লেখকদের কাছে অজানা ছিল।
(ক্রমশঃ)
#ষষ্ঠ_পর্বের_লিঙ্ক
https://www.facebook.com/groups/sahityapatrika/permalink/1018709078786333/
Post a Comment