অকারণে ধ্বংস করে দিচ্ছে প্রকৃতির সৌন্দর্য। নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য বেছে নিয়েছে অনৈতিক পন্থা।

মো.সাজ্জাদ হোসেন

 

অপরূপ সৌন্দর্যের বাংলাদেশ নষ্টদের দখলে


মো.সাজ্জাদ হোসেন


নয়ন জুড়ানো,মনোমুগ্ধকর,দৃষ্টিনন্দন, অপরুপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি হলো আমাদের এই বাংলাদেশ। পৃথিবীতেই শুধু মানুষের বাস। অন্য কোন গ্রহে মানুষের বসবাস আছে কিনা সেটা নিশ্চিত নয়। পৃথিবী মানুষের আদিম বসতি। পৃথিবীতে মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন জীবজন্তু বহু বছর যাবত একসাথে বসবাস করে আসছে।



মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। প্রকৃতির সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে মানুষই মেধা বুদ্ধিতে অনন্য। অথচ মানুষই প্রকৃতির ক্ষতি করছে। প্রতিনিয়ত মানুষ ধ্বংস করছে প্রকৃতি ও জীবজন্তুকে। জীবজন্তু কখনও মানুষের ক্ষতি করেনা। মানুষের ধ্বংস লীলায় ধ্বংস হচ্ছে জীব। ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ। বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে এই সুন্দর পৃথিবী। নষ্টরা দখল করে নিচ্ছে সুন্দর পৃথিবী।


অকারণে ধ্বংস করে দিচ্ছে প্রকৃতির সৌন্দর্য। নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য বেছে নিয়েছে অনৈতিক পন্থা। মানবিকতাকে বিসর্জন দিয়ে সাময়িক সুখের আশায় প্রকৃতিকে বশীকরণ করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে । 



প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিকে রুদ্ধ করে দিচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতির সৌন্দর্য। পরিবর্তিত হচ্ছে জলবায়ু। ষড়ঋতুর বাংলাদেশ। কিন্তু ছয় ঋতুর দেখা বড় ভার । সময়ের আবর্তে ঋতু পরিবর্তিত হচ্ছে। কিন্তু ছয ঋতুর বৈশিষ্ট্য আজ আর মানুষের  চোখ জুড়ায় না। ছয় ঋতুর সৌন্দর্য আজ মানুষ উপভোগ করতে পারেনা।



নদী মাতৃক দেশে নদী হারিয়ে যাচ্ছে। খাল,বিল,নদীনালার গতিপথ পরিবর্তিত হচ্ছে। নদী দখল করে গড়ে উঠেছে বহুতল ভবন। লোভী মানুষের লোভের কারণে হারিয়ে যাচ্ছে উদ্ভিদ। উদ্ভিদের সুস্বাদু ফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে মানুষ। কৃষি জমিতে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে দূষিত হচ্ছে পানি। খাদ্যে ফরমালিন ও প্রিজারভেটিভ ব্যবহার হচ্ছে প্রতিনিয়ত।  শিশু খাদ্যে মেশানো হয় বিষাক্ত কেমিক্যাল। গরু,ছাগল,হাঁস,মুরগি মোটা তাজাকরণের জন্য খাওয়ানো হয় শিল্পের বর্জ্য। শিল্পায়ন,নগরায়নের নামে উজাড় করা হচ্ছে বন। হারিয়ে যাচ্ছে পশুপাখি। শিল্প কারখানার বর্জ্য ফেলে দূষিত করা হচ্ছে নদীনালা,খাল,বিল। গ্রীণ হাউজ প্রতিক্রিয়ার ফলে সাগরের তলদেশে তলিয়ে যেতে পারে দেশের নিম্নাঞ্চল। প্রতিবছর বন্যা,ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বসে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে প্রকৃতি ও পরিবেশ। মারা যাচ্ছে মানুষ ও গবাদি পশু। অনিয়ন্ত্রিত শব্দ দূষণের ফলে শিশু ও বৃদ্ধরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। মানুষের শ্রবণ শক্তি কমে যাচ্ছে। গাড়ীর কালো ধোঁয়ায় দূষিত হচ্ছে বায়ু। শ্বাসকষ্ট,এ্যাজমা,হাঁপানির মত জটিল রোগে ভুগতে হচ্ছে মানুষকে। প্রযুক্তির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে উত্তপ্ত হচ্ছে পৃথিবী। বিভিন্ন যন্ত্রের রেডিয়েশানের ফলে ক্যান্সারের মত জটিল ও কঠিন রোগ হচ্ছে। মানুষের চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাচ্ছে। 



সর্বক্ষেত্রে আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। আধুনিকতার অপপ্রয়োগে প্রকৃতি ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে। যান্ত্রিক বিনোদনে সময় কাটাতে ব্যস্ত সবাই। প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস করে গড়ে তোলা হচ্ছে বহুতল ভবন,শপিংমল। প্রযুক্তি নির্ভর বিনোদন শিশুদের মন মানুষিকতায় বিরুপ প্রভাব বিস্তার করছে। প্রীতি,প্রেম,ভালোবাসা তাদের কাছে তুচ্ছ। প্রকৃতির ভালোবাসাই প্রকৃত ভালোবাসা। মানুষের মনের আশা আকঙ্খাকে পরিপূর্ণ করে দিতে পারে একমাত্র প্রকৃতি। প্রকৃতির ক্ষতি সাধন করা হলে ভবিষ্যত প্রজন্মকে রোবট নির্ভর হতে হবে। রোবটের মাধ্যমে মনের আবেগ অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ ঘটবে না। বাবা মায়ের ভালোবাসা বঞ্চিত শিশুরা মানবিক হতে পারবে না। প্রকৃতি ধ্বংসের ফলে আমাদের শিশু কিশোররা প্রকৃতির সৌন্দর্য থেকে বঞ্চিত  হচ্ছে। প্রকৃতি সময়ে সময়ে আমাদের উপর মারাত্মক প্রতিশোধ নিচ্ছে। প্রকৃতির প্রতিশোধ আরও জটিল ও কঠিনতর হতে পারে।



ডি.এইচ লরেন্স বলেছেন“ কার সন্তান তাতে কিছু আসে যায় না,কি আবহাওয়ায় মানুষ তাই নিয়ে কথা। যে কোন ছেলেকে মানবশ্রেণির আওতায় এনে রাখ,দেখবে বড় হয়ে সে মানব হয়ে উঠবে। আবার রাজা বাদশার ছেলেও যদি মজুরের সঙ্গে মিলেমিশে মানুষ হয়,বড় হয়ে সে মজুর বৈ আর কিছুই হবে না। গোড়ার কথাটা হচ্ছে মানুষের পারিপার্শ্বিক অবস্থা।”



প্রভাষক,লাউর ফতেহপুর ব্যারিস্টার জাকির আহাম্মদ কলেজ

নবীনগর,ব্রাহ্মণবাড়িয়া।