উড়ে যাওয়ার আগে আস্তে করে কাক বলল " মুক্তির আনন্দ।"

  

অভিষেক সাহা


অণুগল্প -- আনন্দ 

 গল্পকার -- অভিষেক সাহা


" সারাটা দিন শুধু কা-কা করে একেবারে কান ঝালাপালা করে দিলি! একটু থাম, একটু শান্তি দে !" বিরক্তি মেশানো গলায় বিনয় ঢেলে উড়ে এসে বসা  কাককে বলল খাঁচাবন্দি টিয়া।

.

রোজ সকালে টিয়ার মালিক ওকে কয়েক ঘণ্টা ঘরের বাইরে রাখে। সেই সময় ও আকাশ দেখে, গাছপালা দেখে, প্রকৃতির মুক্ত বাতাস নেয়। তবে সবই  খাঁচার ভিতর থেকে। ওর মালিক ওকে খুব ভালোবাসে। সেই কোন ছোটবেলায় মেলা থেকে ওকে কিনে এনেছিল। তারপর থেকে এত বড় করেছে। কখনো চোখের আড়াল করে না। মালিক বেড়াতে গেলেও একটা লোক রেখে যায়, যাতে টিয়ার কোন অসুবিধা না হয়।

.

" কা-কা করি কী আর সাধে, এখন খুব ব্যস্ত। নাওয়া-খাওয়ার ফুরসত নেই। এখন কী কাল বলত !" ব্যস্ততার মাঝেই উত্তরের সাথে প্রশ্ন ছুঁড়ে  দিল কাক।

" কী কাল মানে! আমার কাছে দুটোই কাল , সকাল আর বিকাল!" একটু অবাক হয়ে বলল টিয়া।

.

" সারাক্ষণ খাঁচায় থেকে থেকে সবই ভুলে মেরে দিয়েছিস। অবশ্য তোর তো এসবের দরকার নেই! এখন বসন্ত কাল, এসময় আমরা বাসা বাঁধি। " কাক বলল।

একটু জোরেই হেসে উঠলো টিয়া। তারপর হাসি থামিয়ে বলল" ওই তো তোদের বাসার ছিড়ি। শুকনো গাছের ডাল, এর বাড়ির চামচ ,ওর বাড়ির ছেঁড়া তার এসব দিয়ে একটা জগাখিচুড়ি। না আছে মাথা, না আছে হাত- পা। তার জন্য আবার এত ব্যস্ততা। একবার চোখ তুলে দেখ আমার খাঁচাটা। কত সুন্দর,  কত আরামদায়ক!" তাচ্ছিল্য করে কথাগুলো বলল টিয়া।

.

কাক ভালো করে দেখল টিয়ার খাঁচাটা। সত্যিই সুন্দর। ভেতরে খাবার রাখার, জল রাখার ব্যবস্থা।কোন অভাব নেই। আর ঝড়-বৃষ্টিতেও ভয় নেই। নিজের মনেই ভাবল কাক। 

" কী রে মুখে ভাষা নেই। সব কথা শেষ! একেই বলে আনন্দে থাকা, বুঝলি!" বেশ গর্ব করে বলল টিয়া।

.

" তা তুই ঠিকই বলেছিস। তবে আমার এসবের দরকার নেই। আমার নিজের যা আছে তাই ভালো। " নরম গলায় বলল কাক।

" দরকার থাকলেই দিচ্ছে কে ভায়া। না পেলেই আঙুর ফল টক! একটা বুদ্ধি দিচ্ছি শোন, পরের জন্মে ভগবানের হাতে পায়ে ধরে টিয়া হয়ে পৃথিবীতে আসবি, তুইও এমন সুখ পাবি!" মজা ঢালা গলায় বলল টিয়া।

.

" কোন দরকার নেই। আগেই তো বললাম,  আমার কাছে যা আছে তাই ভালো ! " জোর গলায় বলল কাক।

" কী আছে রে ব্যাটা তোর কাছে?" অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল টিয়া।

উড়ে যাওয়ার আগে আস্তে করে কাক বলল " মুক্তির আনন্দ।"

.