নিঃসঙ্গ, একাকী - কোন সুখ নয়, কোন কাজ কাজ নয়; যতক্ষণ না তোমাকে দেখি!"

তপনকুমার মাইতি



কবি তপনকুমার মাইতির কবিতা: 

জীবনচক্রের বহুরূপ এবং বহুজন্মের সমন্বয়ী প্রজ্ঞা

🍁

তৈমুর খান 

🎃

কবি তপনকুমার মাইতি (জন্ম ১৯৫৩) বিদগ্ধ একজন কবি হিসেবেই বাংলা সাহিত্যের পাঠকের কাছে অতি পরিচিত নাম। কলেজ জীবন থেকেই তিনি প্রবন্ধ, কবিতা এবং অনুবাদ সাহিত্যে বিচরণ করে আসছেন। সাহিত্যের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি বারবার বাঁকবদলও করেছেন। সম্প্রতি দুখানি দুই ধরনের কাব্যগ্রন্থ আমার হাতে এসে পৌঁছেছে। এই কাব্য দুটি হল:


১) 'তিক্ততার রঙে এই জন্ম'(প্রথম প্রকাশ জানুয়ারি ২০২০) 


২) 'অমর যন্ত্রণার পদাবলি'(প্রথম প্রকাশ শ্রাবণ ১৪২৮) 


 'তিক্ততার রঙে এই জন্ম' পাঠ করতে গিয়ে এক নেশা-ঘোরের আবর্তনের মধ্যে বারবার পাক খেতে হয়। কখনো মনে হয় আদিম যুগের গুহা থেকে নিজেকে দেখছি। কখনো মনে হয় সাম্প্রতিকের কর্মব্যস্ত যান্ত্রিক যুগের মানুষ। নৈতিক ও অনৈতিক, পাপ-পুণ্য, ন্যায়-অন্যায় কোনও বোধের মধ্যেই নিজেকে আবদ্ধ করে রাখা যায় না। এক স্বয়ংক্রিয় বিদ্রোহী সত্তা তার সর্বময় ব্যাপ্তি রচনা করে চলে। কিন্তু আশ্চর্য হই তখনই, যখন কবি কোরআন পুরাণ, বেদ-বাইবেল,ওয়ার্ডসওয়ার্থ-রবীন্দ্রনাথ,  শেলি-কিটস, স্বর্গ-নরক সব কিছুর মধ্যেই অনায়াসে বিচরণ করতে পারেন। আমরা তখন সেই প্রাচীন সত্তার সম্মুখীন হই যা ব্রহ্মদর্শনের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় নানা বিতর্কিত ও বৈপরীত্যের সমাবেশে প্রাচুর্যমণ্ডিত। এ যেন এক অবাধ মুক্তির স্বয়ংক্রিয় সোপান রচনা, যেখানে নিজেকে বহুর মধ্যেই নিরীক্ষণ করা সম্ভব।


 এই কাব্যখানি পাঠ করতে গিয়ে বারবার স্মরণ হয় বিখ্যাত আমেরিকান কবি R.M. ইংলিল্ড্টেরের কথা (জন্ম ১৯৬৪)। যিনি গত ২৫ বছরে  বেশ কয়েকটি কবিতার বই প্রকাশ করেছেন: 'যেখানে কোনও দৃষ্টি নেই', 'কফি অ্যাস ব্লুজ ও অন্যান্য কবিতা', 'শেষ সিগারেট: R.M. এর সংগৃহীত কবিতা ঈগ্রানহার্ড', 'পুনরুত্থান ওয়াল্টজ', 'অন্ধকার জমি এবং অন্যান্য'। তাঁর একটি কবিতার কিছুটা অংশ :


"WRITE.


Manifest power in words.


Write poetry.


Name your own humanity.


Ponder creation thru inner meaning.


Find hidden voices in the universal consciousness of soul.


Find yourself, and then return again.


Poetry is the sacred religion


Of both time & space older than


Civilization itself.


Poetry is dead.


Poetry is living.


Poetry is everything.


Poetry is a language


Unto itself that is understood.


Poetry will never die


It will still appear in places


Long after you are dust


So write.


That’s all.


That’s it.


Write."


(R.M. Engelhardt, The Bones of Our Existence, A Journal 2046)


অর্থাৎ 


লিখুন।


কথায় শক্তি প্রকাশ করুন।


কবিতা লিখুন।


নিজের মানবতার নাম দিন।


অভ্যন্তরীণ অর্থের মাধ্যমে সৃষ্টিকে চিন্তা করুন।


আত্মার সর্বজনীন চেতনায় লুকানো কণ্ঠ সন্ধান করুন।


নিজেকে খুঁজুন, এবং তারপর আবার ফিরুন। কবিতা হল সভ্যতার চেয়েও পুরানো সময় ও স্থান উভয়েরই


পবিত্র ধর্ম । কবিতা মরে গেছে। কবিতা বেঁচে আছে। কবিতাই সব। কবিতা হচ্ছে এমন একটি ভাষা যা বোঝা যায়। কবিতা কখনো মরবে না, আজও দেখা দেবে ধুলোর পরেও, তাই লিখুন। এটাই সব। এটাই। লিখুন।


  আর এই কবিতাকেই খুঁজে পেলাম তপনকুমার মাইতির কাব্যে। যেখানে লুকোনো আত্মার কণ্ঠস্বর বারবার বেজে উঠেছে। কবিতা সেই আদিম স্তর ভেদ করে মরমী সঞ্চারে চিরন্তন আবেগের দরজা খুলে দিয়েছে। তাই তপনকুমার মাইতিও লিখতে পেরেছেন:


 "আমি কবি স্বপ্নপাগল


 ঈশ্বরের চেয়ে হাজার গুণ ঐশ্বর্য আমার বেশি


 আমি জন্ম-মৃত্যুর কারণ ও বিশ্বসৃষ্টির রহস্য


 উন্মোচন করে যাব,


 প্রস্রাবে ভাসিয়ে দেব বিভূতি


 সংক্রমণ থেকে চূড়ান্ত আনন্দ উপভোগ করব।"


 কাব্যের মোট ২২টি কবিতায় এই স্বতশ্চল অভিযাত্রা যে কম্পন ও গর্জন হয়ে এসেছে তা অনন্ত প্রজ্ঞারই অভিক্ষেপ বলা যায়। মানুষের অন্তরে কুয়াশার মতো যে অব্যক্ত বেদনার ভার ঢেউ তুলেছে তাকে কবিতাতেই ভাষা দিতে চেয়েছেন। পানোন্মত্ত কালোয়ার,হৃতসংবিৎ, বেতর, বেজন্মার আত্মাভিমান কবিকে মর্মরিত করেছে। তাই নরকের যাত্রায় হোমারের গান শুনতে পেয়েছেন। চেতনা প্রবাহের নির্বেদ অভীপ্সায় নিজেকে বিস্তৃত করেছেন। গ্রীক দর্শন থেকে একেশ্বরবাদ এবং রাবীন্দ্রিক সম্মোহনে নিজেকে বহমান করেছেন। পৌরাণিক আখ্যান থেকে আলো পেয়েছেন। আবার আদিম প্রহেলিকায় জীবনের অমসৃণ ক্রিয়ায় নিজেকে সমর্পন করেছেন। ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে সর্বব্যাপী জাগরণকে আহ্বান করেছেন। র‌্যাঁবোর মতো ছাল-চামড়া ছাড়িয়ে নিজেকে নগ্ন করে দেখার শিহরন চেয়েছেন। আবার খ্রিস্ট আর বুদ্ধের স্মরণাতীত কালের তপস্যায় ছিটকে আসা তারার উৎসবে হিংসাত্মক মোক্ষকামী প্রজ্ঞা উপলব্ধি করেছেন। সকলের মধ্যে এক জীবনে বহু জীবনকে ধারণ করেই তিক্ততায় ভর করে পা রেখেছেন নরকের দিকে। এই তাঁর মুক্তি:


 "নিজেকে ব্রহ্ম ভাবা


 আমি তার অংশব্রতী


 সপিণ্ড দানে হয়


 আত্মার সদগতি"


 আত্মাই যে সর্বস্তর তা তিনি যাজ্ঞবল্ক্যে পেয়েছেন। স্বর্গ-নরকের অলীক স্বপ্ন ছেড়ে পৃথিবীর প্রেমিক হতে চেয়েছেন। কিন্তু বর্তমান সভ্যতার অমানবিক স্বার্থপরতায় কবি ব্যঙ্গাত্মক বৈপরীত্যকে অনুধাবন করেছেন। দেবতা বা ঈশ্বরের সাড়া পাননি:


 "কেউ আছে আমাদের ডাকে দেবে সাড়া?


 নিঝুম রাতে দ্বারে দিই কড়ানাড়া।"


  সহমর্মী সত্যের মুখশ্রী কবি খুঁজে পাননি। শুধু কল্পনা বিলাসের সুরম্য ব্যাজস্তুতি ঘনীভূত হয়ে উঠেছে। তাই বিষণ্নতার স্বর্গ রচনা কবির:


 "হারিয়েছি সুখ,শান্তি


 বিতৃষ্ণা ঐশিক মুক্তি,


 সনাতন কণ্ডূয়ন


 বজ্জাতিতে সুশোভন।"


 স্বাভাবিকভাবেই 'রক্তাক্ত মুখে হাসির ফোয়ারা' দেখা দিয়েছে। 'বস্তির ওপর চাঁদের নষ্টামি' খেলা করেছে। 'শ্মশানে কোকিলের ডাক' শ্রুত হয়েছে। 'প্রভাতসঙ্গীতের ক্যাকোফোনি' এবং 'সন্ধ্যাসংগীতের মীড় ও মূর্ছনা'র পুনরাবির্ভাব ঘটেছে। দুর্যোধনের জন্ম হয়েছে। নৈঃশব্দের কোলাহল শোনা গেছে। ঘৃষ্ট জীবনযাপন ও সোনালি স্বপ্নের দৌরাত্ম্য দেখা দিয়েছে। গাছেদের নৃত্য ও ধর্ষিত মানবতা আমাদের দৃষ্টির সৌজন্যকে আরও প্রখর করে তুলেছে।


 সমগ্র কাব্য জুড়েই এই দ্বান্দ্বিক সত্তার রহস্য থেকে চলেছে আত্ম-অন্বেষণ। যেখানে বহুমুখী প্রজ্ঞায় নিজের বহুরূপ উঠে এসেছে। প্রকৃতি-ঈশ্বর, রাত্রি-দিন, আলো-অন্ধকার সবকিছুই এক রহস্যময়তায় তীব্র ঘোরের সৃষ্টি করেছে। চেতনাপ্রবাহে মিশে গেছে স্বয়ংক্রিয় অভিযাপনের সেইসব ক্রিয়াগুলিই। নিজেকে খণ্ডিত করা, দর্শন করা, আবার ব্যাপ্তিময় করে তোলা এই অভিযানেরই প্রকাশ। কাব্যখানি এই কারণেই ব্যক্তিকে অতিক্রম করে আবহমানকালের সর্বব্যাপী সঞ্চার হয়ে উঠেছে। ইতিহাস-পুরাণের প্রাচীর ভেদ করে এমনকী প্রাগৈতিহাসিক সভ্যতার অন্ধকারময়তা থেকে নিজেকে তুলে এনে বর্তমানের আলোর দিশারী উত্থানে শামিল করেছেন। এই অনন্তগামিতার কৌশলী জীবনচক্রের বহুরূপ এবং বহুজন্মের সমন্বয়ী প্রজ্ঞার সম্মোহনের অনুধাবন প্রক্রিয়াটিই ক্রিয়াশীল হয়ে উঠেছে। নৈতিক-অনৈতিকের এবং শ্লীল-অশ্লীলের ভেদরেখা মুছে দিয়ে সভ্যতা ও অসভ্যতায় আদিমচারী জীবনের স্বরূপকে দাঁড় করিয়েছেন কবিতায়। নিছক গদ্য এবং ছান্দিক অভিকর্ষে নির্মাণ করেছেন কাব্যকলা। তৎসম এবং তদ্ভব শব্দকে যেমন এক আসনে বসিয়েছেন, তেমনি প্রাচীন ও পৌরাণিক মিথের আকরিক পরিভাষাগুলিও আমদানি করেছেন। সেই ভাবেই আবার রোমান্টিকতা এবং বাস্তবতাকেও একই প্লাটফর্ম দান করেছেন। সবদিক দিয়েই একটি নতুন পরীক্ষায় কবি উত্তরণ ঘটাতে চেয়েছেন।


   'অমর যন্ত্রণার পদাবলি' কাব্যখানি কবি রুমির প্রেমের শায়েরীর মতোই উচ্চারিত নিটোল কবিতিকা। প্রতিটি চার লাইনের স্বয়ংসম্পূর্ণ কবিতা হিসেবেই এই কাব্যে গ্রন্থিত হয়েছে।মোট ১৮৮ টি এই কবিতিকা এবং ১৮ টি হাইকু জাতীয় কবিতিকা নিয়েই কাব্যটি পূর্ণতা পেয়েছে। এই জাতীয় কবিতার বিষয় হল প্রেম। একান্তভাবে  ব্যক্তিহৃদয়ের ক্ষরণ, মান-অভিমান এবং বিরহদহনের এক চিরন্তন শূন্যতার উপলব্ধি। এই কবিতাগুলিতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। রবীন্দ্রনাথের 'লেখন' গ্রন্থের কবিতাগুলিও এই জাতীয় কবিতা। এই ধরনের প্রতিটি কবিতাতেই থাকে অনন্ত অসীমের মানবাত্মার চিরন্তন উপলব্ধি এবং আবেদন। কাব্যের সূচনাতেই অর্থাৎ ১ নং পদাবলিতে কবি লিখেছেন:


"বর্ষায় ধোয়া জামরুলের মতো ফর্সা মুখ, 


                       ফিরেছ টিউশন থেকে—


ফুটকড়াইয়ের মতো হঠাৎ হঠাৎ চমকে উঠেছিলে


                      ছেলেটির হাতে হাত রেখে।"


 বয়ঃসন্ধি পেরোনো প্রথম যৌবনোদ্গমে যে অনুরাগের ছোঁয়া তাতেই যন্ত্রণার বীজ রোপিত হয়। এই বীজ অঙ্কুরোদগম হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় নানা প্রতিক্রিয়া, যা বিশ্বসাহিত্যেরই মূল বিষয় হয়ে উঠেছে। 'উজ্জ্বলনীলমণি' গ্রন্থে শ্রীরূপ গোস্বামী লিখেছেন:


"রতির্যা সঙ্গমাৎ পূর্বং দর্শন শ্রবণাদিজা। তয়োরুন্মীলতি প্রাজ্ঞৈঃ পূর্বরাগঃ স উচ্যতে।” অর্থাৎ, দেহমিলনের পূর্বে দর্শন, শ্রবণ প্রভৃতির দ্বারা নায়ক-নায়িকার চিত্তে যে রতি এবং উপভোগ রসের সৃষ্টি হয় তাকে বলে পূর্বরাগ। এই দর্শন নানা প্রকারের হতে পারে—চাক্ষুষ দর্শন, চিত্রপটে দর্শন, স্বপ্নে দর্শন ইত্যাদি।


 কবিতার উক্ত অংশে হাতের ছোঁয়াটিই এই পূর্বরাগের সূচনা করেছে। এই পূর্বরাগ বিস্তৃতিও চেয়েছে এবং পরিণতির দিকে অগ্রসর হয়েছে। বিরহের দশ দশার আবির্ভাব ঘটেছে।শ্রীরূপ গোস্বামী তার বিভিন্ন নাম দিয়েছেন: চিন্তা, জাগরণ, উদ্বেগ, তানব বা কৃশতা, মলিনাঙ্গতা, প্রলাপ, ব্যাধি, উন্মাদ, মোহ ও মৃত্যু। কবির কবিতাতেও দেখতে পাই:


"বিষণ্ন, প্রহৃত—অপরাধবোধে ভুগেছি এতকাল ধরে—


                                   নিঃসঙ্গ, একাকী—


কোন সুখ নয়, কোন কাজ কাজ নয়;


                        যতক্ষণ না তোমাকে দেখি!" 



 এই আকর্ষণ প্রতিটি মানবের। এই কষ্টও প্রতিটি ব্যক্তির। প্রকৃতির বিভিন্ন রূপে তা তুলনীয় হয়ে উঠেছে। নদী, ঢেউ, বন্যা, নৌকা হয়ে তা ফুটে উঠেছে রূপকাশ্রয়ে। বিরহ দহন জ্বালা এক একটি হৃদয়কে খুন করে চলেছে।এও এক ধরনের আত্মিক মৃত্যু। কবি বলেছেন :


"খুন কি শুধু বাহিরে দেখা যায়? ভেতরে অজস্র খুনের চিহ্ন 


                             ঢাকা থাকে কিংখাবে—


সম্পন্ন আলোর ভেতর জীবনভর কত মধুর খুন হতে থাকি 


                                            সেই হিসেবে।"


 এই মৃত্যু বহন করেই কবিরা কবিতা লিখে চলেন। শব্দের তাজমহল নির্মাণ করেন। হৃদয়ের আজীবন শূন্যতায় তপস্বী হয়ে ওঠেন। নৈঃশব্দের ভেতর ঢেউয়ের কাঁপন তোলেন। তখন পূর্ণিমার চাঁদকেও বিধবা মনে হয়। হাইকু জাতীয় কবিতায় লেখেন:


 "পূর্ণিমার চাঁদ


 শ্মশানে ওড়ে সাদা কাপড়


 ধু-ধু প্রান্তর।"


 জীবন এই প্রান্তরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকে। পথ পরিক্রমা করে। দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। কৈশোরের স্মৃতিগুলি একে একে জড়ো হয়। প্রেমের গোলাপ ফুটে উঠে মনের বাগানে ঝরে যায়। কবিতায় পুলিৎজার পুরস্কার পাওয়া আমেরিকান বিখ্যাত কবি লিসেল মুলার(১৯২৪-২০২০) এই উপলব্ধি থেকেই তাঁর একটি কবিতায় বলেছেন:


"This poem is endless, the odds against us are endless, our chances of being alive together statistically nonexistent; still we have made it"


("Alive Together" — Lisel Mueller)


 অর্থাৎ এই কবিতা সীমাহীন, আমাদের বিরুদ্ধে মতপার্থক্যও সীমাহীন, আমাদের জীবিত থাকা একত্রিত হওয়ার সম্ভাবনাগুলিও অস্থায়ী; আমরা এখনও এটি তৈরি করে চলেছি। সুতরাং এই কবিতা লেখার শেষ নেই। যতদিন মানব সভ্যতা বিরাজ করবে ততদিন এই শাশ্বত কবিতা লেখা হবে। আর ততদিনও অমর যন্ত্রণা বহন করবেন কবিকুল। আদম-হবার কাল থেকেই এই মৌলিক আবেগ সঞ্চারিত হয়ে আসছে। কবিরা যুগে যুগে তার মেধাবী উত্তরণ ঘটিয়েছেন। কবি তপনকুমার মাইতিও বিশ্বসাহিত্যের কাব্য-মহাকাব্যের সাগর-মহাসাগরে সাঁতার কেটেছেন। আত্মমন্থনের ভাষায় জারিত করেছেন তাঁর অভিজ্ঞতা। কবিতার প্রতিটি অংশেই চিরন্তন romantic pain-এরই প্রয়োগ ঘটিয়েছেন। এবং এইগুলিই প্রেমের মূল ঐশ্বর্য। এলিজাবেথ ব্যারেট ব্রাউনিং এর কন্ঠেও এই প্রেমেরই জয়গান শুনতে পাই:


"I love thee with the breath, Smiles, tears, of all my life; and, if God choose, I shall but love thee better after death."


("Sonnets From the Portuguese 43"— Elizabeth Barrett Browning


couple Being Single in your thirties


Shutterstock)


 অর্থাৎ আমি তোমাকে আমার সমস্ত জীবন থেকে শ্বাস, হাসি, অশ্রু দিয়ে ভালোবাসি; এবং ঈশ্বর যদি বেছে নেন, তবে আমি মৃত্যুর পরও তোমাকে ভালোবাসি।


 তপনকুমার মাইতিও সেভাবেই লিখতে পারেন "একমাত্র তুমি—তোমাতে ভরে আছে সবার জীবন—" এই 'তুমি' সর্বময় সর্বকালের ব্যাপ্তি নিয়ে প্রেমিক-প্রেমিকার সর্বনামে উঠে এসেছে।



🍂


১)তিক্ততার রঙে এই জন্ম: তপনকুমার মাইতি, কবিতিকা, রাঙামাটি, মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর-৭২১১০২,


 প্রচ্ছদ: গ্রাহাম ম্যাথুজ।


 মূল্য-১২৫ টাকা।


🍃


 ২)অমর যন্ত্রণার পদাবলি: তপনকুমার মাইতি, লিপি প্রকাশন, পার্বতীপুর, তমলুক, পূর্ব মেদিনীপুর-৭২১৬৩৬,


 প্রচ্ছদ: Albena Vatcheva-র ছবি থেকে সংগৃহীত। 


মূল্য-১০০ টাকা।


🦸কবির সঙ্গে কথা :081450 83367


(ছবি:তপনকুমার মাইতি) 


তপনকুমার মাইতি

তপনকুমার মাইতি

তপনকুমার মাইতি